শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

আইফোন থেকে স্যামসাং

চাঁদপুরে হাত বদলে বিক্রি হচ্ছে চোরাই মোবাইল

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৩, ৭:১৩ পিএম
চাঁদপুরে হাত বদলে বিক্রি হচ্ছে চোরাই মোবাইল

চাঁদপুর শহরে অবাধে চলছে চোরাই মোবাইল কেনাবেচা। প্রশাসন নানা সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও চোরাই মোবাইল কেনাবেচার কারবারিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। সম্প্রতি পুলিশের নানা ধরনের উদ্যোগে অপরাধ কমে আসলেও ‘চোরাই মোবাইল কেনাবেচা রোধে প্রশাসন অনেকটাই নীরব। দামি কোনো বিখ্যাত ব্র্যান্ড কিংবা অখ্যাত সস্তা ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন কিনতে চাইলে যে কেউ নির্দিষ্ট কোনো বিপণিতে যাওয়ার কথাই ভাববেন। তবে এখন শুধু নামি-দামি শপিং মলেই নয়, চাঁদপুর শহরেই মিলছে যে কোনো দামি ব্র্যান্ডের পুরাতন মোবাইল ফোন।

সম্প্রতি চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে হর্কাস মার্কেটের মোবাইল মেলা দোকান থেকে বিভিন্ন কোম্পানীর ৮৮টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট চুরি করেছে চোর চক্র। চুরি হওয়া ৪১ দিন পর তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হবিগঞ্জ উপজেলার নবীগঞ্জ থানার বিভিন্ন স্থান থেকে পরিত্যাক্ত

চুরিকৃত মোবাইলের ৪২টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকতা শাহরিন হোসেন। যার মূল্য প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। এরপর থেকে আবার চাঁদপুর শহরে চোরাই মোবাইল বেচাকেনার উপদ্রব্য বেড়ে গেছে।

শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা চাঁদপুর টাওয়ারের দ্বিতীয় তলার হোসেন এক্সচেঞ্জ গ্যালারি, ইস্টান টেকনোলজি, বিসমিল্লাহ টেলিকম, সাকিব মোবাইল এক্সচেঞ্জ, চায়না মোবাইল বাজার, এয়ার মোবাইল এক্সচেঞ্জের দোকানে গেলে যে কারও চোখ আটকে যাবে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শত-শত নতুন পুরাতন মোবাইলের পসরা সাজিয়ে বসে আছে দোকানিরা।

Model Hospital

বিখ্যাত আইফোন থেকে স্যামস্যাং কিংবা হালের হুয়াওয়ে থেকে অপ্পো, হারিয়ে যেতে বসা নোকিয়ার বিভিন্ন মডেল কি নেই এই মার্কেটে! ডিসপ্লে ভাঙাচোরা বিভিন্ন মোবাইল থেকে শুরু করে ঝকঝকে নতুন সবই মিলছে সাশ্রয়ী দামে।

সরকারকে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে এসব ফোন কেনাবেচার কারণে একদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার অন্যদিকে গ্রাহকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া এসব মোবাইল রেজিস্ট্রেশনও করা যায় না। এতে করে মোবাইল চুরি হলে আইএইমইআই নম্বর না থাকার কারণে ফোন উদ্ধার করা যায় না। ক্রেতারা আইনগত ও প্রশাসনিক ঝামেলার সম্মুখীন হচ্ছেন।

এই সমস্ত দোকানগুলোতে রয়েছে আইফোন সেভেন, স্যামসাং, অপ্পু, আইটেল, শাওমি সবগুলোই দামি ব্র্যান্ডের ফোন। দামও জানালেন ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যেই।

এতো কম দামের কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কেটের এক ব্যাবসায়ী জানান, সেটের দাম শুনে বুঝে নেওয়া উচিৎ এগুলোর মধ্যে হয়তো সেল রিসিট, বক্স অথবা চার্জারের কোন ঝামেলা রয়েছে। এখান থেকে সেট কিনলে নিজের দায়িত্বেই কিনে নিতে হবে। কম দামে যারা দামি ব্র্যান্ডের সখ মেটাতে চান তারাই এখান থেকে সেট কেনেন। অনেকে পুরাতন সেটের উপরে নতুন কেসিং লাগিয়ে অরিজিনাল ব্র্যান্ডের নতুন ফোন বলে বিক্রি করেন। অরিজিনাল ব্র্যান্ডের যত ফোন থাকবে সেগুলো দেখতে যেমনই হোক সেগুলো পুরাতন। অনেক পুরাতন সেটে বিভিন্ন সমস্যা থাকে। সেগুলো ঠিকঠাক করেও এখানে দোকানিরা বিক্রি করেন। প্রতিদিন অনেক ধরনের মানুষ আসে এখানে পুরাতন মোবাইল বিক্রি করতে। তাদের দেখলেই বোঝা যায়, অনেকেই মাদকাসক্ত। এছাড়া, দোকানিদের সঙ্গে মোবাইল চুরি পার্টির এক ধরনের যোগসাজস রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পুরাতন মোবাইল কিনতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবক বলেন, দামে কম হওয়ায় ঝুঁকি আছে জেনেও চোরাই মোবাইল নিয়েছি। শো-রুমের চেয়ে অনেক কম দামে এখানে মোবাইল পাওয়া যায়। মার্কেটে যে মোবাইল ২০-২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সে মোবাইল এখান থেকে অর্ধেক দামে পাওয়া যায়।

চাঁদপুর শহরের মোবাইল ব্যবসায়ীরা বলেন, চোরাই মোবাইলের জন্য আমাদের ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় চলে চোরাই মোবাইল বেচাকেনা। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার। এসব চোরাই মোবাইল বেচাকেনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্থানীয় কিশোর গ্যাং জড়িত। বর্তমানে আইফোনের প্রতি বেশি ঝোঁক ক্রেতারা। চোরাই আইফোনের আইএমই নম্বর ফ্লাশ দিয়ে পরিবর্তন করে বিক্রি করছে দোকানদারের কাছে। এর সাথে সম্পৃক্ত মোবাইল ফোন বিক্রেতা, টেকনিশিয়ান, চোর ও ছিনতাইকারীরা রয়েছেন। প্রশাসন চাইলে আইন প্রয়োগ করে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

এ বিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল ইয়াসির আরাফাত বলেন, সদরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি নজরদারি রয়েছে। যারা চোরাই মোবাইল ফোন বেচাকেনা করে প্রমাণ পেলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোন সহ নতুন যে কোন ডিভাইস যারা কিনবেন অবশ্যই সম্পূর্ণ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ক্রয় করবেন। এতে ক্রেতা এবং বিক্রেতারা আইনি ঝামেলায় পড়তে হবে না।

চোরাই মোবাইল ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের প্রতি আরো সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান চাঁদপুরের সচেতন মহল।

দেশে না থেকেও মানুষের পাশে—কচুয়ার প্রবাসী সোহেল সওদাগরের মানবিকতায় মুগ্ধ এলাকাবাসী

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
দেশে না থেকেও মানুষের পাশে—কচুয়ার প্রবাসী সোহেল সওদাগরের মানবিকতায় মুগ্ধ এলাকাবাসী

সামাজিক ও মানবিক কাজ করে প্রতিটি মানুষের মনে স্থান নিয়েছে প্রবাসী সোহেল সওদাগর।

সোহেল সদাগর কচুয়া উপজেলার কড়‌ইয়া ইউনিয়নের লুন্তি গ্ৰামের কৃতি সন্তান। তার বাবা সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম সিরাজুল ইসলাম । ভাই বোনদের মধ্যে সবার ছোট সোহেল সওদাগর।

এলাকাসহ কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে অসহায় গরিব দুঃখী মানুষের মুখে সোহেল সদাগর মানবতার ফেরিওয়ালা নামে  শোনা যাচ্ছে।কর্মজীবনে তিনি সৌদি আরবে ফারি জমায়, বর্তমানে তার সৌদি আরবে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার জীবনের  উপার্জনের টাকার মধ্যে প্রায় ৫০% টাকা গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতে দেখা যায়।

প্রতিবছরের প্রায় দুই থেকে তিনবার এলাকায় এসে  বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে কোন ব্যক্তির জটিল রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা খরচ, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কর্মসংস্থার ব্যবস্থা করেন।

Model Hospital

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকান্ডে আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকেন। তার এই কর্মকান্ডে কচুয়া উপজেলা বাসির কাছে একজন মানবতার ফেরিওয়ালা হিসাবে মানুষের মনের জায়গায় করে নিয়েছেন।

কচুয়ার একাধিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা জানান,সমাজসেবামূলক কাজে জড়িয়ে জনগণের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন প্রবাসী সোহেল সওদাগর।
সামাজিক দিক থেকে সকলের প্রিয় মানুষ তিনি। মানুষের হিয়ার মাঝে অধিকার পৌছে দেয়াই তার বাসনা, মুখে থাকে তার মন ভাল করে দেয়া হাসি। সদা প্রাণোবন্ত হাস্যোজ্জ্বল মানুষ সোহেল সওদাগর। হাসি ছাড়া কথা বলেন না কারো সাথে। ঘুম থেকে উঠে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত পরোপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন এই মানবিক মানুষ। স্বপ্ন তার অসহায় মানুষদের নিয়ে কাজ করার। তিনি সবসময় অসহায় অবহেলিত মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকেন। শুধু তাই নয় যে কোনো সামাজিক সমস্যায় তাকে পাশে পাওয়া যায়।
কচুয়ার সাধারণ জনগণ জানান, মানবিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব সোহেল সওদাগর নিঃস্বার্থ ভাবে গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
নিজ অর্থায়নে মসজিদ, মাদ্রাসা,ধর্মিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
সোহেল সওদাগর বলেন, ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান। ইসলামের সাথে চলতে হলে ইসলামে দেখানো প্রতিটি বিষয় মেনে চলতে হয়। মানবসেবার জন্য মসজিদ-মাদ্রাসা, মানবিক জনকল্যাণ মুলক কাজ করাও বিশেষ সাওয়াবের কাজ। একটি সুন্দর কাজ সম্পাদন করতে দরকার ভালো মানসিকতার। মানুষের সেবা করেই আমি আত্মতৃপ্তি পাই। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে আমার আত্মতৃপ্তি। মানুষের উপকার করতে পারলে নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে। তাই নিজেকে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রেখেছি। এটাই আমার কর্মময় জীবন। এভাবেই সারাজীবন জনগণের সেবা করে পাশে থাকতে চাই।