মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে কাঠের পুলে ধুঁকছে ৫ গ্রামের বাসিন্দা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৪, ১১:১৩ পিএম
ফরিদগঞ্জে কাঠের পুলে ধুঁকছে ৫ গ্রামের বাসিন্দা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর পাইকপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব ভাওয়াল গ্রামসহ ৫ গ্রামের শত শত লোকের চলাচলের একমাত্র কাঠের পুলটি ভেঙে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মেরামত না করায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

দুই বছর আগে উপজেলা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অফিসে আবেদন করেও ব্রিজ কিংবা কালভার্ট কোনোটির বরাদ্দ মিলেনি। যার ফলে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন গ্রামের বাসিন্দাসহ শিক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্রিজের দাবি গ্রামবাসীর।

সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, কাঠের পুলটির অবস্থা খুবই নাজুক। হেঁটে চলাও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ কয়েক মাস আগে অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ওই সময় কাঠের পুলটির দুই পাশ ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে রিকশা, ভ্যান ও মোটরবাইক পার হতে গিয়ে অনেকে দুর্ঘটনার শিকার হন বলে জানান স্থানীয়রা।

পূর্ব ভাওয়াল গ্রামের তালুকদার বাড়ির সৈয়দ আহমদ তালুকদার বলেন, ৫ বছর আগেও এটি বাঁশের সাঁকো ছিল। এরপর স্থানীয়দের উদ্যোগে কাঠেরপুল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কয়েক মাস আগে অতিবৃষ্টিতে এটির দুই পাশ ভেঙে পড়ে। এখন চলাচল করতে খুবই কষ্ট হয়।

Model Hospital

একই গ্রামের বাসিন্দা দুলাল তালুকদার বলেন, বাঁশের সাঁকো থেকে আমরাই কাঠের পুল তৈরি করেছি। কিন্তু চলাচল করতে অনেক কষ্ট হয়। কয়েকবার যানবাহন পানিতে পড়েছে। স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। এখানে মসজিদ ও ঈদগাঁ আছে। ৫ গ্রামের মানুষ এখান দিয়ে যাতায়াত করে। জনপ্রতিনিধিদের বহুবার জানিয়ে কোনো কাজ হয়নি। এখানে একটি ব্রিজ কিংবা কালভার্ট নির্মাণ করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শামীম বলেন, প্রায় দুই বছর আগে এই কাঠের পুলটি ছোট ব্রিজ করে দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি। এ বছরের শুরুতে একবার পিআইওসহ অন্যান্য লোকজন সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ আসেনি। খোঁজ খবর নিলে ওই কর্মকর্তা জানান আগামীতে বরাদ্দ এলে করা হবে।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তাহের অসুস্থ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীম বলেন, তিনি এই ইউনিয়নে ৮ মাস আগে যোগদান করেছেন। এই কাঠের পুল সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিল্টন দস্তিদার বলেন, স্থানীয়দের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ব্রিজ নির্মাণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকাবাসীর দাবি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে মিছিল, ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান-মেয়রসহ ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে মিছিল, ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান-মেয়রসহ ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে কেক কাটা, মিছিল ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সাবেক পৌর মেয়র এবং ৬ ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে থানা পুলিশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত গভীর রাতে ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এসআই হেলাল খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাতনামা বহু লোককে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ও স্থগিত ঘোষিত দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটে আসামিরা বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে কেক কেটে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করে এবং সরকারবিরোধী মিছিল ও স্লোগান দেয়।

খবর পেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশি এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশবিরোধী প্রচারণা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছিল। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

Model Hospital

মামলায় আসামিরা হলেন, ২নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং চাঁদপুর জেলা কৃষকলিগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ হারুনুর রশিদ (৪৮), ছাত্রলীগের কর্মী জাহিদ আহমেদ (২৫), মুন্না খান (২৩), সাব্বির (২২), মিনহাজ (২১), তুহিন (২৪), ওয়াসিব (২৩), সৈকত (২২), শামীম (২৪), রাসেল মিজি (২৮), আওয়ামী লীগ নেতা জিএম হাসান তাবাস্সুম (৪৫), উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী আল আমিন (২১), সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহফুজুল হক (৪৫), উপজেলা যুবলীগের সদস্য পুতুল সরকার (৪২), গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেন মেম্বার (৪৫), গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সোহেল চৌধুরী (৩৫), ১১ নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
মাহমুদুল হাসান মিরাজ (৩৭), রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা সে্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম কাউছার উল আলম কামরুল (৪৫), পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হোসেন আহাম্মদ রাজন (৪০), উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মশিউর রহমান মিঠু (৫২), গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন ভুইয়া (৩৬), ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক আলমগীর হোসেন রিপন (৪২), ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাত্তার ছৈয়াল (৫৫), রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ ২ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান মেম্বার(৩৮), গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুমন খাঁন (২৮),গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ‌ নেতা মোঃ শাকিল ভূইয়া (২৫), ইয়াছিন খাঁন (২৫), মোঃ মাসুদ রাঢ়ী (৩০), পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান সাউদ (৪৫), উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম পাটওয়ারী (৩০), যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর ওরফে কামরুল সরকার (৩৫), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের‌ সাবেক সভাপতি খাজে আহমেদ মজমুদার (৪৮), ছাত্রলীগ নেতা মাহবুব শেখ (৩২) এর বিরুদ্ধে এজহার নামিয় আসামি করে আরো অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ জানান, অবৈধভাবে জনসমাবেশ করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চক্রান্তের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি বালিথুবা পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য এজাহারনামীয় আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।