বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের লা’শ ঝুলে ছিল রডের মাথায়

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:৩৮ পিএম
চাঁদপুরে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের লা’শ ঝুলে ছিল রডের মাথায়

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম ঢালীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার পর নজরুল ইসলাম ঢালীর লাশ একটি নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ির রডের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সকালে নিহত নজরুল ইসলাম ঢালীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ।

নিহত নজরুল ইসলাম ঢালীর বাড়ি উপজেলার ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়নের বেলুতী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত রুস্তুম আলী ঢালীর ছেলে। নজরুল ইসলাম ঢালী দীর্ঘদিন যাবত খাদেরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি এলাকায় ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন।

পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, সোমবার বিকাল ৪টায় প্রতিদিনের ন্যায় বাড়ির কাছে দোকানে যাবে বলে বাড়ি থেকে বের হন নজরুল ইসলাম ঢালী। রাত ১০টার সময় স্ত্রী জেসমিন আক্তারের সাথে ফোনে যোগাযোগ হয় নজরুল ইসলাম ঢালীর। এর পর রাত ১২টার দিকে বাড়িতে না যাওয়ায় স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও ছেলে জামিউল ইসলাম নাফিজ তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন ধরেননি তিনি। খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও তার সন্ধান পাননি স্বজনেরা। পরে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোকজন বাড়ির পাশে স্থানীয় মফিজুল ইসলামের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ২য় তলার সিঁড়ির রডের সঙ্গে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পাশে নজরুল ইসলাম ঢালীর ব্যবহৃত একটি স্মার্ট ফোন, একটি বাটন মোবাইল ফোন, চশমা, জুতা এবং গ্যাস লাইট পাওয়া যায়।

Model Hospital

নিহত নজরুল ইসলাম ঢালীর স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও ছেলে জামিউল ইসলাম নাফিজ অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে ধরে নজরুল ইসলাম ঢালীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরে লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়। যে চিকন রশি দিয়ে লাশটির গলা ঝুলানো, তা দিয়ে আত্মহত্যা সম্ভব নয় বলে জানান তারা। এছাড়াও লাশের পা মাটিতে লাগানো ছিল।

ঘটনাটি তদন্তে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ বিভাগ) রাশেদুল হক চৌধুরীসহ চাঁদপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মতলব দক্ষিণ থানার ওসি সালেহ আহম্মেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তিনি আরও বলেন, এটি একটি রহস্যজনক মৃত্যু। এটি আত্মহত্যা না হত্যাকান্ড তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। পিবিআইসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন।

শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে মিছিল, ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান-মেয়রসহ ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে মিছিল, ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান-মেয়রসহ ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে কেক কাটা, মিছিল ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সাবেক পৌর মেয়র এবং ৬ ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে থানা পুলিশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত গভীর রাতে ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এসআই হেলাল খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাতনামা বহু লোককে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ও স্থগিত ঘোষিত দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটে আসামিরা বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে কেক কেটে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করে এবং সরকারবিরোধী মিছিল ও স্লোগান দেয়।

খবর পেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশি এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশবিরোধী প্রচারণা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছিল। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

Model Hospital

মামলায় আসামিরা হলেন, ২নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং চাঁদপুর জেলা কৃষকলিগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ হারুনুর রশিদ (৪৮), ছাত্রলীগের কর্মী জাহিদ আহমেদ (২৫), মুন্না খান (২৩), সাব্বির (২২), মিনহাজ (২১), তুহিন (২৪), ওয়াসিব (২৩), সৈকত (২২), শামীম (২৪), রাসেল মিজি (২৮), আওয়ামী লীগ নেতা জিএম হাসান তাবাস্সুম (৪৫), উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী আল আমিন (২১), সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহফুজুল হক (৪৫), উপজেলা যুবলীগের সদস্য পুতুল সরকার (৪২), গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেন মেম্বার (৪৫), গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সোহেল চৌধুরী (৩৫), ১১ নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
মাহমুদুল হাসান মিরাজ (৩৭), রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা সে্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম কাউছার উল আলম কামরুল (৪৫), পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হোসেন আহাম্মদ রাজন (৪০), উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মশিউর রহমান মিঠু (৫২), গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন ভুইয়া (৩৬), ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক আলমগীর হোসেন রিপন (৪২), ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাত্তার ছৈয়াল (৫৫), রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ ২ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান মেম্বার(৩৮), গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুমন খাঁন (২৮),গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ‌ নেতা মোঃ শাকিল ভূইয়া (২৫), ইয়াছিন খাঁন (২৫), মোঃ মাসুদ রাঢ়ী (৩০), পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান সাউদ (৪৫), উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম পাটওয়ারী (৩০), যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর ওরফে কামরুল সরকার (৩৫), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের‌ সাবেক সভাপতি খাজে আহমেদ মজমুদার (৪৮), ছাত্রলীগ নেতা মাহবুব শেখ (৩২) এর বিরুদ্ধে এজহার নামিয় আসামি করে আরো অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ জানান, অবৈধভাবে জনসমাবেশ করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চক্রান্তের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি বালিথুবা পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য এজাহারনামীয় আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।