বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতীয় কাঁচা মরিচ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ১শ’ ৫০টাকায়, খুচরা বিক্রিতে প্রতারনা

চাঁদপুরে খুচরা কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২শ’-৩শ’; শহরতলীতে ৪শ’, উপজেলায় ৫শ’টাকায়

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৪, ৯:০৪ এম
চাঁদপুরে খুচরা কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২শ’-৩শ’; শহরতলীতে ৪শ’, উপজেলায় ৫শ’টাকায়

চাঁদপুর শহরের পালবাজার ও পুরানবাজারে ভারতীয় কাঁচা মরিচের দাম পাইকারী বিক্রি হ্েচ্ছ. প্রতি কেজি ১শ’ ৪০ টাকা থেকে ১শ’৫০টাকা ধরে। সেই কাঁচা মরিচই পালবাজারসহ বিভিন্ন হাট বাজারে খুচরা বিক্রেতারা প্রতারনার মাধ্যমে বেশী দামে বিক্রি করে যাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ও পালবাজারে প্রতি কেজি ভারতীয় কাঁচা মরিচ খুচরা বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩০০শ’ টাকায় ও সর্বনিন্ম কাঁচা মরিচ ২০০শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে দেখা যায়। এ অবস্থা বিরাজমান থাকায় ক্রেতা সাধারন মারাত্বক ভাবে প্রতারনার শিকার হচ্ছে এবং মরিচ ক্রয় করে ঠকতে হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ক্রেতাদের কাছ হতে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শুক্রবার(৩০আগষ্ট) শহরের পালবাজার,পুরানবাজার,নতুনবাজার,বিপনীবাগ,শহরতলীর বিভিন্ন স্থানে ও ফুটপাতে এমন চিত্র প্রত্যাক্ষ ভাবে পরিলক্ষিত হয়।

দেখা যায়, এ সব বাজারের পাইকারী আড়তে প্রতি কেজি ভারতীয় কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে। সেই মরিচই হাত বদল হয়ে দুইগুন ও তিনগুন বৃদ্ধি করে খুচরা বাজারে বিক্রেতা বিক্রি করে বেশী মুনাফা করে যাচ্ছে। এ অবস্থা দেখার যেন কেহ নেই।

সরোজমিনে কয়েকটি বাজার,শহরতলীর বাজার,ফুটপাতের ব্যানে করে বিক্রি করা ও উপজেলা পর্যায়ে হাট,বাজারে,মরিচ বিক্রেতাদের মরিচ বিক্রি করার খবর নিয়ে যা’ জানতে পারি। তা’হচ্ছে,চাঁদপুর জেলা সদরের বড় বড় পাইকারী আড়তে এ ভারতীয় মরিচ এক শ্রেনীর ব্যবসায়ী ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে আমদানী করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে থাকে। সে আমদানী কারক রসুল খা’র ছেলে বাদশা ও হালিম পাটওয়ারীর ছেলে রিপনের সাথে আলাপ কালে তারা জানান,ভারত থেকে প্রতি কেজি মরিচ শুল্ক ও ভ্যাট দিয়ে প্রতি কেজি মরিচ ১১০ টাকা ক্রয় মূল্য পড়ে। সে মরিচ বিক্রি হচ্ছে,১৪০ থেকে ১৫০টাকা দরে। আড়ৎদারের খরচ দিয়ে কেজি প্রতি ২০টাকা ৩০টাকা মুনাফা হয়ে থাকে।

Model Hospital

চাঁদপুরে গত জুন-জুলাই এ দুই মাস চাঁদপুরের চর এলাকার ও বিভিন্ন স্থানের দেশীয় কাঁচা মরিচ এ এলাকার চাহিদা পূরনে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৬০হতে ৭০টাকা পাইকারী দরে। সে কাঁচা মরিচ খুচরা বাজারে বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১০০শ’টাকা দরে। হঠাৎ বন্যা ও বৃস্টির পানির কারনে চর অঞ্চলের মরিচ নষ্ট হয়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান,এর পরই বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা পূরনে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা কাঁচা মরিচ বেশী দামে আমদানী করায় ও ভারতীয় কাঁচা মরিচ দিয়ে চাহিদা পূরনে বাজারে প্রতি কেজি পাইকারী বিক্রি হয় ১০০টাকা থেকে ১১০টাকায়। সে মরিচ খুচরা বিক্রি করতে দেখা যায় ১৩০টাকা থেকে ১৫০টাকা দরে।

হঠাৎ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবিরাম বৃস্টিপাত ও বন্যার পানি ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ায় কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে যায় ব্যাপক ভাবে। কয়েক দিন কাঁচা মরিচ খুচরা বাজারে ১৮০টাকা থেকে ২০০শ’টাকা বিক্রি হলেও কয়েক দিন পূর্বে ব্যবসায়ীরা আমদানী কম অজুহাতে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৫০০টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। আবার দেশের কোথায়ও কোথায়ও ৮০০শ’ টাকা থেকে ১হাজার ও ১২০০শ’টাকা কাঁচা মরিচ বিক্রি খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ হয়।

বৃষ্টি কিছুটা কমে যাওয়ায় ও ভারতীয় কাঁচা মরিচ প্রচুর আদানী হওয়ায় চাঁদপুরের পাইকারী আড়তে ১৫০টাকা কাঁচা মরিচ বিক্রি হলেও চাঁদপুর শহরের কোর্টস্টেশন এলাকায়,পালবাজার খুচরা বাজারে,ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায়,পৌর সভার সামনে,কুিমল্লা রোড,কালী মন্দিরের সামনে,জোর পুকুর পাড়,নতুন বাজার,বিপনীবাগসহ শহরের বিভিন্ন স্থানের ব্যানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২০০শ’টাকা থেকে ৩০০শ’ টাকায় খুচরা কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শহরতলীর মৈশাদী,বাবুরহাট,শাহাতলী বাজার,মহামায়া বাজার,ইচলী,বাগড়াবাজার,ফরাক্কাবাদ বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে,৪০০শ’টাকা দরে।

এ ছাড়া চাঁদপুর সদরের আড়ৎ থেকে ব্যবসায়ীরা কাঁচা মরিচ ক্রয় করে সে কাঁচা মরিচ বিভিন্ন উপজেলায় নিয়ে বিক্রি করছে ৪৫০ থেকে ৫০০শ’টাকা দরে। বিশেষ করে উপজেলার বন্যা দূর্গত

কচুয়া,শাহরাস্তি,ফরিদগঞ্জ,হাইমচর এলাকায় ঘুরে জানা যায়,এ সব স্থানের ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০শ’টাকা দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি করছে।

এ বিষয়ে চাঁদপুর শহরের খুচরা কাঁচা মাল ব্যবসায়ী বিক্রেতা মজিবুর রহমান,মনির হোসেন,মান্নান মিয়া জানান,বাজার দর সকালে,দুপুরে ও বিকেলে উঠা নামা করে। যার দরুন কেহ বেশীতে কিনায় বেশী বেঁেচ। আবার যারা কমে কিনতে পারে তারা কম দরে বিক্রি করে। বাজার দর ঠিক হতে আরো সময় লাগবে।

শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে মিছিল, ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান-মেয়রসহ ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
শেখ হাসিনার জন্মদিনে কেক কেটে মিছিল, ফরিদগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান-মেয়রসহ ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে কেক কাটা, মিছিল ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সাবেক পৌর মেয়র এবং ৬ ইউপি চেয়ারম্যানসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে থানা পুলিশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত গভীর রাতে ফরিদগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এসআই হেলাল খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাতনামা বহু লোককে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ও স্থগিত ঘোষিত দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটে আসামিরা বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে কেক কেটে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করে এবং সরকারবিরোধী মিছিল ও স্লোগান দেয়।

খবর পেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশি এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশবিরোধী প্রচারণা, রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করছিল। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

Model Hospital

মামলায় আসামিরা হলেন, ২নং বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং চাঁদপুর জেলা কৃষকলিগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ হারুনুর রশিদ (৪৮), ছাত্রলীগের কর্মী জাহিদ আহমেদ (২৫), মুন্না খান (২৩), সাব্বির (২২), মিনহাজ (২১), তুহিন (২৪), ওয়াসিব (২৩), সৈকত (২২), শামীম (২৪), রাসেল মিজি (২৮), আওয়ামী লীগ নেতা জিএম হাসান তাবাস্সুম (৪৫), উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী আল আমিন (২১), সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহফুজুল হক (৪৫), উপজেলা যুবলীগের সদস্য পুতুল সরকার (৪২), গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেন মেম্বার (৪৫), গোবিন্দপুর (উত্তর) ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সোহেল চৌধুরী (৩৫), ১১ নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
মাহমুদুল হাসান মিরাজ (৩৭), রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা সে্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম কাউছার উল আলম কামরুল (৪৫), পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হোসেন আহাম্মদ রাজন (৪০), উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ মশিউর রহমান মিঠু (৫২), গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন ভুইয়া (৩৬), ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক আলমগীর হোসেন রিপন (৪২), ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাত্তার ছৈয়াল (৫৫), রূপসা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ ২ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান মেম্বার(৩৮), গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুমন খাঁন (২৮),গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ছাত্রলীগ‌ নেতা মোঃ শাকিল ভূইয়া (২৫), ইয়াছিন খাঁন (২৫), মোঃ মাসুদ রাঢ়ী (৩০), পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান সাউদ (৪৫), উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম পাটওয়ারী (৩০), যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর ওরফে কামরুল সরকার (৩৫), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের‌ সাবেক সভাপতি খাজে আহমেদ মজমুদার (৪৮), ছাত্রলীগ নেতা মাহবুব শেখ (৩২) এর বিরুদ্ধে এজহার নামিয় আসামি করে আরো অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ জানান, অবৈধভাবে জনসমাবেশ করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চক্রান্তের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি বালিথুবা পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য এজাহারনামীয় আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।